ইরানি তরুণীকে বিয়ে করে বাংলাদেশে নিয়ে আসলেন হাজী রাশেদ সাহেব!
চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী হাজী রাশেদ সাহেব বহু বছর ধরে ইরান থেকে খেজুর আমদানি করতেন। ব্যবসার সূত্রে একদিন তিনি ইরানের একটি খেজুর বাগানে যান। সেখানে তিনি দেখলেন এক তরুণীকে— নাম সামিরা। সাধারণ পোশাক, পরিশ্রমী জীবন, কিন্তু চরিত্রে ছিল লজ্জাশীলতা, দায়িত্ববোধ ও পরিবারের প্রতি গভীর ভালোবাসা।
হাজী রাশেদ সাহেব লক্ষ্য করলেন, মেয়েটি শুধু নিজের কাজই করছে না; অসুস্থ বাবার সেবা করছে, ছোট ভাইবোনদের দেখাশোনা করছে। তখন তিনি বুঝলেন, একজন মানুষের আসল সৌন্দর্য তার চরিত্রে।
ইসলামে বিয়ে শুধু সৌন্দর্য বা সম্পদের সম্পর্ক নয়; বরং এটি দয়া, সম্মান, দায়িত্ব ও ভালোবাসার এক পবিত্র বন্ধন।
রাসূল ﷺ বলেছেন:
“নারীকে চারটি বিষয় দেখে বিয়ে করা হয়— তার সম্পদ, বংশ, সৌন্দর্য ও দ্বীনদারিতা। তোমরা দ্বীনদার নারীকে প্রাধান্য দাও।”
— (সহিহ বুখারী)
হাজী রাশেদ সাহেব সামিরার পরিবারকে সম্মানের সাথে বিয়ের প্রস্তাব দিলেন। তিনি সাহায্য করলেন, কিন্তু কাউকে অপমান করেননি। কারণ ইসলামে বিয়ে
কোনো কেনাবেচা নয়; এটি সম্মান ও আমানতের সম্পর্ক।
সামিরার মা কাঁদতে কাঁদতে বললেন,
— “আমাদের মেয়েকে কখনো কষ্ট দেবেন না।”
তিনি উত্তর দিলেন,
— “আজ থেকে সে শুধু আপনাদের মেয়ে নয়, আমার জীবনসঙ্গী। তাকে সম্মান দেওয়া আমার দায়িত্ব।”
বিয়ের পর সামিরা বাংলাদেশে এলো। নতুন দেশ, নতুন ভাষা, নতুন সংস্কৃতি— সবকিছুই তার জন্য কঠিন ছিল। কিন্তু হাজী রাশেদ সাহেব ধৈর্য ও ভালোবাসা দিয়ে তার পাশে থাকলেন। তিনি তাকে বাংলা শেখালেন, পরিবারের সাথে পরিচয় করিয়ে দিলেন এবং কখনো একা অনুভব করতে দেননি।
ইসলাম আমাদের শেখায়, স্বামী-স্ত্রী একে অপরের জন্য “পোশাকস্বরূপ”।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
“তোমরা একে অপরের পোশাক।”
— (সূরা আল-বাকারাহ: ১৮৭)
অর্থাৎ, তারা একে অপরকে আড়াল করবে, সম্মান দেবে, নিরাপত্তা দেবে ও ভালোবাসা দেবে।
ধীরে ধীরে সামিরাও বাংলাদেশের সংস্কৃতির সাথে মানিয়ে নিল। সে পরিবারের সেবা করল, সবার ভালোবাসা অর্জন করল। এলাকার মানুষ বলতে লাগল,
— “বিদেশি হলেও তার ব্যবহার ও চরিত্র অনেক সুন্দর।”
একদিন সামিরা তার স্বামীকে বলল,
— “আপনি শুধু আমাকে বিয়ে করেননি, আমাকে সম্মান ও নতুন জীবন দিয়েছেন।”
হাজী রাশেদ সাহেব হেসে বললেন,
— “তুমিও আমার জীবনকে শান্তি দিয়েছ।”
এই গল্প আমাদের শেখায়—
সত্যিকারের সংসার শুধু টাকা দিয়ে হয় না। সংসার টিকে থাকে দয়া, সম্মান, ধৈর্য, দায়িত্ব ও আল্লাহর ভয়ের উপর।
যে স্বামী স্ত্রীর সম্মান রক্ষা করে, আর যে স্ত্রী স্বামীর প্রতি কৃতজ্ঞ ও বিশ্বস্ত থাকে— আল্লাহ তাদের সংসারে বরকত দান করেন। 🤍

Comments
Post a Comment