Skip to main content

ব্যাংকে টাকা রেখে মাসিক মুনাফা দিয়ে সংসার চালানো কি জায়েজ: ইসলাম যা বলছে

 আপনি হয়তো জানেন না, কিন্তু বাংলাদেশে প্রচলিত "ইসলামী ব্যাংক" নামে যেসব ব্যাংক চলছে, সেগুলোতে টাকা রেখে মাসিক মুনাফা নেওয়া শরীয়তের দৃষ্টিতে বিপদজনক। অনেকের ধারণার বিপরীতে, এগুলো প্রায়শই কাগজে কলমে ইসলামী হলেও বাস্তবে শরীয়ার নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ হয় না।



বর্তমান বাংলাদেশে যে কোনো মেয়াদী ডিপোজিট (ডিপিএস, এফডিআর) বা সেভিংস একাউন্টে টাকা রাখলে ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত লভ্যাংশ বা মুনাফা গ্রহণ করা জায়েজ নয়। কারণ, ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ পদ্ধতি সম্পূর্ণভাবে শরীয়াসম্মত নয়। এ ধরনের মুনাফা মূলত সুদের সমতুল্য, যা কুরআন-সুন্নাহর আলোকে হারাম।


এ বিষয়টি শুধু ইসলামি ব্যাংকেই সীমাবদ্ধ নয়। মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস যেমন বিকাশ থেকেও যে মুনাফা বা লভ্যাংশ পাওয়া যায়, তা গ্রহণও জায়েজ নয়।


ইসলামী ব্যাংকগুলো কাগজে-কলমে ইসলামী হলেও তাদের প্রকৃত কার্যক্রমে অনেক লেনদেন শরীয়ার মানদণ্ড পূরণ করে না। অনেক ব্যাংক ভুয়া বা বেআইনি লেনদেনের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই ইসলামী ব্যাংকে টাকা রাখার মাধ্যমে মুনাফা নেওয়া নিরাপদ নয়।


সুদি ব্যাংকের প্রেক্ষাপট:


কারেন্ট অ্যাকাউন্ট (চলতি হিসাব): প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা রাখা জায়েজ, কারণ এতে কোনো মুনাফা দেয়া হয় না।


সেভিংস ও ফিক্সড ডিপোজিট: টাকা রাখা জায়েজ নয়, কারণ এগুলোতে সুদের সমতুল্য লভ্যাংশ বা মুনাফা পাওয়া যায়।


লকার (ভালুয়েবল আইটেম রাখার সেবা): সম্পূর্ণ জায়েজ, কারণ এটি শুধুমাত্র আমানত হিসেবেই গণ্য হয়।


যদি কেউ অনিচ্ছাকৃতভাবে ব্যাংকে টাকা রেখে থাকে, তবে মূল টাকাটি নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারবে। তবে ব্যাংক প্রদত্ত মুনাফা দান করা বা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা উত্তম।


উপসংহার: ইসলামী ব্যাংকিংয়ে "মুনাফা" নামে যে টাকা পাওয়া যায়, তা গ্রহণ করা শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ নয়। হালাল-হারাম বেছে চলতে চাইলে এই ধরনের টাকা থেকে দূরে থাকা বাঞ্ছনীয়।


সূত্র: বাদায়েউস সানায়ে ৪/৪২৬; আলমাআয়ীরুশ শইয়্যাহ, পৃ. ১৫৬, ২১০-২১৬, ২৪২-২৫৫; মাজাল্লাতু মাজমাইল ফিকহিল ইসলামী, সংখ্যা ৫, ২/১৫৩৯, ১৫৯৯; সংখ্যা ১২, ১/৬৯৭উত্তর প্রদানে: ফতওয়া বিভাগ, মারকাযুদ দাওয়াহ আল ইসলামিয়া, ঢাকা


প্রশ্ন: 

ইসলামের দৃষ্টিতে ব্যাংকে টাকা রেখে মাসিক “নির্দিষ্ট” মুনাফা/সুদ নিয়ে সংসার চালানো জায়েজ নয়—এটি স্পষ্টভাবে হারাম (রিবা/সুদ) হিসেবে গণ্য।

উওর ব্যাখ্যা..

নিচে কোরআন–হাদিসের আলোকে সংক্ষেপে ও পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করছি:


১. কোরআনের স্পষ্ট নির্দেশ


আল্লাহ তাআলা বলেন—


> “আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে হারাম করেছেন।”

(সূরা আল-বাকারা: ২৭৫)




আরও বলেন—


> “হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সুদের যা বাকি আছে তা ছেড়ে দাও।”

(সূরা আল-বাকারা: ২৭৮)




👉 এখানে বোঝা যায়, নির্দিষ্ট হারে টাকা বাড়তি পাওয়া = সুদ = হারাম।



---


২. প্রচলিত ব্যাংকের মাসিক মুনাফা কেন হারাম


প্রচলিত (সুদভিত্তিক) ব্যাংকে—


টাকা জমা দিলে


ব্যাংক নির্দিষ্ট হারে


ঝুঁকিবিহীন ও নিশ্চিত টাকা বাড়িয়ে দেয়



ইসলামে এই নিশ্চিত বাড়তি টাকা-ই হলো রিবা (সুদ)—এটি জায়েজ নয়, তা দিয়ে সংসার চালানোও জায়েজ নয়।



---


৩. হাদিসে সুদের ভয়াবহতা


রাসূল ﷺ বলেছেন—


> “সুদের এক দিরহাম খাওয়া ৩৬ বার ব্যভিচারের চেয়েও ভয়াবহ।”

(মুসনাদে আহমাদ)




আরও বলেছেন—


> “সুদ গ্রহণকারী, দানকারী, লেখক ও সাক্ষী—সবার ওপর আল্লাহর লানত।”

(সহিহ মুসলিম)


---


৪. তাহলে কীভাবে টাকা রেখে আয় করা যাবে (হালাল উপায়)


✅ ১. ইসলামী ব্যাংক (মুদারাবা পদ্ধতি)


লাভ–ক্ষতির ভিত্তিতে


লাভ নিশ্চিত নয়


ব্যবসা হলে লাভ, ক্ষতি হলে ক্ষতি ➡️ এটি জায়েজ



✅ ২. নিজে হালাল ব্যবসা/বিনিয়োগ


দোকান, কৃষি, ফ্রিল্যান্সিং, ভাড়া ব্যবসা ইত্যাদি



✅ ৩. পার্টনারশিপ ব্যবসা (শিরকাহ)


ঝুঁকি ও লাভ ভাগাভাগি




---


৫. বিশেষ প্রশ্ন: যদি উপায় না থাকে?


ইসলামে চরম বাধ্যবাধকতা (দারুরত) ছাড়া সুদ হালাল হয় না।

আর “সংসার চালানো কঠিন”—এটি সাধারণত দারুরত হিসেবে গণ্য হয় না, যতক্ষণ অন্য হালাল পথ খোলা আছে।



---


সংক্ষেপে সিদ্ধান্ত


বিষয় হুকুম


প্রচলিত ব্যাংকে টাকা রেখে মাসিক নির্দিষ্ট মুনাফা ❌ হারাম

ঐ টাকা দিয়ে সংসার চালানো ❌ নাজায়েজ

ইসলামী ব্যাংকের মুদারাবা ✅ জায়েজ

হালাল ব্যবসা/বিনিয়োগ ✅ উত্তম







🎁 Your Special Offer is Loading...

Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.

10s

⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Comments

Popular posts from this blog

স্ত্রী ছাড়া কার সাথে স'হবা'স করা জায়েজ: ইসলামের স্পষ্ট বিধান কি জেনে নিন ...

 স্ত্রী ছাড়া কোন নারীর সাথে সহবাস করা যাবে? ইসালামের স্পষ্ট বিধান ইসলাম মানব জীবনের প্রতিটি দিকের জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। পারিবারিক জীবন ও দাম্পত্য সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ইসলাম অত্যন্ত স্পষ্ট ও কঠোর বিবান নির্ধারণ করেছে। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে- স্ত্রী ছাড়া কি কোনো নারীর সাথে সহবাস করা বৈধ? এই প্রতিবেদনে কুরআন ও হাদিসের আলোকে বিষয়টি তুলে ধরা হলো। ইসলামের মৌলিক বিধান ইসলামে সহবাস শুধুমাত্র বৈধ বিবাহের মাধ্যমে স্ত্রীর সাথেই অনুমোদিত। স্ত্রী ছাড়া অন্য যেকোনো নারীর সাথে শারীরিক সম্পর্ককে ইসলাম যিনা (বাভিচার) হিসেবে গণ্য করে, যা একটি মারাত্মক কবিরা গুনাহ। কুরআনের সুস্পষ্ট নির্দেশনা "আর তারা নিজেদের লজ্জাস্থান সংয়ত রাখে- শুধু তাদের স্ত্রীদের সাথে - সূরা আल-सुमितून (२०८-०) এই অপ্রয়াত থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় যে, বৈধ সহবাসের পরিসর কেবল স্ত্রী পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। কাদের সাথে সহবাস সম্পূর্ণ হারাম? বিয়ে ছাড়া যেকোনো নারী (প্রেমিকা, বাগদত্তা ইত্যাদি। মাহরাম নারী-মা, বোন, খালা, ফুফু, দাদি, नातिः পরকীয়া সম্পর্কের নারী। বর্তমান যুগে দাসী প্রসঙ্গ ঐতিহাসিকভাবে আলোচিত দাগী বিষয়টি বর্তমান যুগে প্রয...

ঢাকা-১৫ আসনে প্রার্থী ও জামায়াতে আমিরের রেজাল্ট জেনে নিন ...see more ,

 নিজ কেন্দ্রেই হারলেন ঢাকা-১৫ আসনে প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ধানের শীষের শফিকুল ইসলাম খানের কাছে মাত্র ৫ ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে এ তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে জামায়াত আমির দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৫৬০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের শফিকুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৫৬৫ ভোট। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার ১ হাজার ১৪৭ জন। এর আগে আজ সকাল ৭টা থেকে সারা দেশে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে শুরু হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি এদি ন গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়েছে। 🎁 Your Special Offer is Loading... Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown. 10s ⏳ Stay here — your offer will open in a new page. ✅ Redirect happens only once per session.

রমজানের শেষ দিনের চাঁদ দেখা গেছে, আমিরাতে ঈদুল ফিতরের তারিখ জানা গেল...

 রমজানের শেষ দিনের চাঁদ দেখা গেছে, আমিরাতে ঈদুল ফিতরের তারিখ জানা গেল   রমজানের শেষ দিনের চাঁদ দেখা গেছে, আমিরাতে ঈদুল ফিতরের তারিখ জানা গেলসংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশে রমজানের শেষ দিনের চাঁদ দেখা গেছে। ফলে চলতি বছর রমজান ৩০ দিন পূর্ণ হতে পারে এবং ঈদুল ফিতর শুক্রবার উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোরে রাজধানী আবুধাবিসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদটি দেখা যায়। এমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি-র সদস্য তামিম আল তামিমি রমজানের ২৮তম দিনে (১৪৪৭ হিজরি) ভোর ৬টার দিকে আমিরাতের আকাশে এই চাঁদের ছবি ধারণ করেন। খবর গালফ নিউজের।জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, এ বছর রমজান পূর্ণ ৩০ দিন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সেই হিসেবে আগামী ২০ মার্চ (শুক্রবার) ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে, যা শাওয়াল মাসের প্রথম দিন হিসেবে গণ্য হবে। অন্যদিকে, সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানিয়েছেন, ১৮ মার্চ বুধবার নতুন চাঁদ দৃশ্যমান হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে পরদিন থেকেই নতুন চন্দ্রমাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনাও কম বলে ধারণা করা হচ্ছে। সর্বশেষ চাঁদ দেখা সাপেক্ষেই ঈদের চূড়ান্ত ঘোষণা দেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট...