পুরান ঢাকা (Old Dhaka) ভূমিকম্প ঝুঁকির কারণ
1. পুরনো ও দুর্বল ভবন
পুরান ঢাকায় অনেক ভবন প্রায় শতাব্দী পুরনো, অনেকটাই unreinforced masonry (ইউআরএম) বা “non-engineered” কাঠামোর।
এই ধরণের নির্মাণগুলো ভূমিকম্পে দুর্বল, কারণ তারা সাধারণত আধুনিক সিসমিক ডিজাইন নেই।
MDPI-গবেষণা অনুযায়ী, পুরান ঢাকার অনেক ভবন ৩০ বছরের বেশি পুরনো, যেগুলো ভূমিকম্প-প্রতিরোধী নয়।
2. ঘনবসতি ও সংকীর্ণ রাস্তা
পুরান ঢাকার অঞ্চল ঘনভাবে বাস করা হয়েছে, গলি-নালী সংকীর্ণ।
সংকীর্ণ পথ এবং কম খোলা জায়গা থাকায় জরুরি উদ্ধার বা পালিয়ে যাওয়ার পথ সীমিত হতে পারে।
3. ভুল বা দুর্বল বেস (ভূমি ও মাটি)
ঢাকা শহরের বেশ কিছু অংশ “ভরা মাটি” (landfill) বা নরম মাটিতে নির্মিত।
এমন মাটি ভূমিকম্পের সময় কম ক্ষমতাসম্পন্ন হতে পারে, বা “লিকুইফেকশন” (liquefaction) হতে পারে — যার ফলে মাটি তরল처럼 আচরণ করতে পারে।
সব মাটির অবস্থান সমান না — কিছু এলাকায় ভূমিকম্পের প্রভাব বাড়তে পারে।
4. নিয়ন্ত্রনহীন বা দুর্বল আইন এবং নির্মাণ মান
বিল্ডিং কোড থাকলেও তা যথাযথভাবে প্রয়োগ বা নজরদারি নাও হতে পারে।
কর্তৃপক্ষ এবং উন্নয়ন সংস্থাগুলোর মধ্যে দূর্নীতি, অনুমোদন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এমন একটি সমস্যা, যা নিরাপদ নির্মাণ বাধাগ্রস্ত করে।
রেজিলিয়েন্স প্রোজেক্ট এবং জরুরি পরিকল্পনা অনেক ক্ষেত্রে অপর্যাপ্ত।
5. জনসংখ্যার ঘনত্ব
পুরান ঢাকায় জনসংখ্যা খুব বেশি, ফলে একটি বড় ভূমিকম্প হলে মৃত্যু বা আহতের সংখ্যাও বেশি হতে পারে।
পাশাপাশি, উদ্ধার কাজে বাধা বেড়ে যায় যদি রাস্তা সংকীর্ণ এবং বিশাল ভাঙন হয়।
6. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধতা
পুরান ঢাকার জন্য উপযুক্ত ত্রাণ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রস্তুতি কম থাকতে পারে।
উপযুক্ত “evacuation space” বা খোলা জায়গার অভাব রয়েছে পুরান ঢাকায়।
---
বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা
পুরান ঢাকার মধ্যে বিশেষ যেসব অংশ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ তা হলো:
অল্ড ঢাকা (DSCC): DSCC (Dhaka South City Corporation)-এর পুরাতন ও পুরনো ওয়ার্ডগুলোতে ঝুঁকি বেশি।
শঙ্করী বাজার (Shankhari Bazar): অনেক বিল্ডিং শতবর্ষ পুরনো, এবং তারা বহু-উপযোগী (multipurpose) ব্যবহৃত হয়, যা ঝুঁকিকে বাড়ায়।
সুত্রাপুর, লালবাগ: গবেষণায় দেখা গেছে এখানে অপরিকল্পিত, পুরনো এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন বেশি।
---
ঝুঁকির মাত্রা: “কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে” — কিছু পরিমাপ ও তথ্য
জাতীয় সিসমিক জোন অনুযায়ী, ঢাকা মিডিয়াম-রিস্ক জোন (Zone 2) তে পড়ে।
আগের গবেষণায় অনুমান করা হয়েছে, যদি একটি বড় ভূমিকম্প (উচ্চ মাত্রার) হয়, তাহলে পুরান ঢাকার অনেক ভবন ধসে পড়ার সম্ভাবনা খুব বেশি।
কিছু বিশ্লেষণ দেখায়, অনুমানকৃত ভূমিকম্প (scenario-based) ঘটলে পুরান ঢাকে বড় সংখ্যক বিস্তীর্ণ ধ্বংস হতে পারে, এবং উদ্ধার কাজ সীমিত হতে পারে।
সম্প্রতি (২০২৫) রিপোর্টে বলা হচ্ছে ঢাকায় প্রায় ২১ লাখ (2.1 লক্ষ) ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
---
কার কারণ “ঝুঁকি বাড়িয়েছে” – মানবিক ও প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ
অনেক বিশ্লেষক বলছেন, প্রকৃত ঝুঁকির এক বড় কারণ মানব নির্মিত — দুর্বল আইন, অনুমোদনের অনিয়ম এবং দুর্বল ইন্সপেকশন।
উন্নয়ন সংস্থাগুলো (যেমন RAJUK) তাদের দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করতে পারছে না।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং প্রশিক্ষণ এখনও উন্নত পর্যায়ে নেই।
---
ঝুঁকি কমানোর জন্য কী করা যেতে পারে
1. সিসমিক রেট্রোফিটিং
পুরনো ভবনগুলোর জন্য রেট্রোফিটিং বা পুনর্নির্মাণ করা যেতে পারে, বিশেষ করে যেগুলো ইউআরএম বা নন-ইঞ্জিনিয়ার্ড ধরনের।
2. নিরাপদ গঠন ও কোড প্রয়োগ
ভবন কোড কঠোরভাবে বাধ্যতামূলক করা এবং নিয়মিত ইন্সপেকশন করা।
3. জরুরি প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ
বাসিন্দাদের মধ্যে ভূমিকম্প সচেতনতা বাড়ানো, জরুরি প্রস্থান পরিকল্পনা তৈরি করা এবং উদ্ধার প্রশিক্ষণ দেওয়া।
4. খোলা স্থান ও পালানাগার তৈরি
পুরান ঢাকায় যেখানে সম্ভব, ছোট পার্ক, মাঠ বা খোলা এলাকা তৈরি করা যেতে পারে যা জরুরি সময়ে প্রস্থান বা আশ্রয় হিসেবে কাজ করবে।
5. মানচিত্রায়ন ও ঝুঁকি মানচিত্র
বিস্তারিত ঝুঁকি মানচিত্র তৈরি করা — কোন এলাকা বিশেষভাবে ঝুঁকিতে, কোন ভবন কী ধরনের মজবুতিকরণ প্রয়োজন — এবং সেই অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করা।
6. নিয়মিত নজরদারি ও আইনগত বর্ধন
রাজধানী উন্নয়ন সংস্থাগুলোর স্বচ্ছতা বাড়ানো, অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং কোড লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।
---
সার্বিক মূল্যায়ন
ঝুঁকি খুবই বাস্তব: পুরান ঢাকার ভূমিকম্প ঝুঁকি শুধুমাত্র কল্পনাপ্রসূত নয়, এটি ভৌত এবং সামাজিক বাস্তবতা — পুরনো, ঘনবসতি ও দুর্বল গঠন অনেকেই স্বীকার করেছেন।
আপত্তি রয়েছে: যদিও কিছু গবেষক বলছেন ঢাকা “মডারেট” ঝুঁকির এলাকায় — — তবে “ঝুঁকিময় এলাকা” হিসেবে পুরান ঢাকা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয় অনেক রিপোর্টে।
কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি: ঝুঁকি কমাতে শুধু সচেতনতা যথেষ্ট নয়, সার্বিক পরিকল্পনা, আইন প্রয়োগ ও ভূ-প্রকৌশলিক হস্তক্ষেপ দরকার।
---
যদি চাও, আমি সাম্প্রতিক (২০২৪–২০২৫) তথ্য অনুযায়ী পুরান ঢাকার নতুন ভূমিকম্প ঝুঁকি বিশ্লেষণ করেপারি — বলব?
🎁 Your Special Offer is Loading...
Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.
⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Comments
Post a Comment