প্রাচীনকাল থেকেই সোনাকে ধরা হয় শুভ ও সর্বোচ্চ মূল্যবান ধাতু হিসেবে। বিয়ে থেকে উপনয়ন-সোনার উপস্থিতি ছাড়া যেন সম্পূর্ণ হয় না কোনো শুভঅনুষ্ঠান। তবে সেই সোনার আসন কি এবার দখল হতে চলেছে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে জিঙ্ক (Zinc) নামের এক ধাতুর চাহিদা সোনাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। দেখতে রুপোর মতো এই ধাতুটির দাম এখন তুলনামূলকভাবে কম হলেও, শিল্পখাতে এর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে-এবং সেইসঙ্গে বাড়ছে ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক জিঙ্ক অ্যাসোসিয়েশন (IZA) জানিয়েছে, আগামী দশকে ভারতে জিঙ্কের ব্যবহার ১.১ মিলিয়ন টন থেকে বেড়ে ২ মিলিয়ন টন ছাড়িয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ, এক দশকে ব্যবহার প্রায় দ্বিগুণ হবে।
আইজেডএ-এর পরিচালক অ্যান্ড্রু গ্রিন বলেন, "ভারতে জিঙ্কের বর্তমান চাহিদা ১.১ মিলিয়ন টন, যা দেশটির উৎপাদনের চেয়েও অনেক বেশি। আগামী ১০ বছরে এই পরিমাণ দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে। সোনার বার্ষিক ব্যবহারের তুলনায় জিঙ্কের প্রয়োজন বহুগুণ বেশি হবে।”
তিনি আরও জানান, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর প্রায় ১৩.৫ মিলিয়ন টন জিঙ্ক ব্যবহৃত হয়, যেখানে মাথাপিছু ব্যবহারের হিসেবে ভারত এখনও পিছিয়ে আছে। বৈশ্বিক মানে পৌঁছাতে হলে জিঙ্কের ব্যবহার বাড়ানো অপরিহার্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্যালভানাইজড ইস্পাত, সৌরশক্তি প্রকল্প ও বায়ুশক্তি শিল্পে জিঙ্কের ব্যবহার ভবিষ্যতে ব্যাপকভাবে বাড়বে। বর্তমানে বৈশ্বিক অটোমোবাইল শিল্পের ৯০-৯৫ শতাংশেই ব্যবহৃত হয় গ্যালভানাইজড ইস্পাত-যা মরিচা থেকে রক্ষা পায় জিঙ্কের প্রলেপে।
অ্যান্ড্রু গ্রিন জানান, "সৌরশক্তি খাতে জিঙ্কের ব্যবহার আগামী বছরগুলোতে ৪৩ শতাংশ বাড়বে, আর ২০৩০ সালের মধ্যে বায়ুশক্তি খাতে এর চাহিদা দ্বিগুণ হবে। এই প্রবণতা জিঙ্ককে আগামী দশকের সবচেয়ে মূল্যবান শিল্প-ধাতুতে পরিণত করবে।”
বর্তমানে বিশ্ববাজারে সোনার দামে ওঠানামা চললেও শিল্প বিশ্লেষকেরা মনে করছেন-'নতুন সোনা' হয়ে উঠতে পারে জিঙ্ক।
🎁 Your Special Offer is Loading...
Please wait a moment. You'll be redirected automatically after the countdown.
⏳ Stay here — your offer will open in a new page.
✅ Redirect happens only once per session.

Comments
Post a Comment